ফাইবার টিপস – যা আপনার জানা জরুরী

ফাইবার টিপস - যা আপনার জানা জরুরী

টপ রেটেড হবার সুবাদে আমার সকল শুভাকাঙ্খীদের জানাই আন্তরিক অভিনন্দন যারা আমাকে বিভিন্ন রকমে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। গত এক বছর ব্যক্তিগত কিছু প্রজেক্ট এবং কাজ নিয়ে খুব বেশি ব্যস্ততার কারণে আমার ফাইবার টিপস পর্বটি চলমান রাখতে পারিনি। আলহামদুলিল্লাহ আপনাদের সকলের দোয়ায় এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। এখন থেকে আবার চেষ্টা করব আপনাদের জন্য টুকিটাকি কিছু লেখালেখি করার যতটুক আমি জানি। হয়তোবা কারো কম কিংবা বেশি উপকারে লেগে যেতে পারে। তবে আমার সব লেখা শুধুমাত্র যারা সিরিয়াস ফ্রিল্যান্সার হতে চায় এবং নিজেকে সফলতার চূড়ায় রাখার স্বপ্ন দেখে তাদের জন্যই। চলুন সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে আমার জানা মতে আজকের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ টিপস জেনে নেই।

১। সর্বপ্রথম আমি বলব আপনারা এখনো যারা আপনাদের আইডি ভেরিফিকেশন করেন নাই দয়া করে ওয়ার্নিং এর অপেক্ষা করবেন না। যত দ্রুত পারেন একাউন্ট নেম চেঞ্জ করে আপনার যথাযথ কাগজপত্র দিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করে নিন। এই ব্যাপারে গ্রুপে এবং ইউটিউবে যথেষ্ট ভিডিও এবং পোস্ট রয়েছে।

২। দেশ এখন ডিজিটাল হয়েছে। শহরের অলিতে গলিতে যেখানে যাই না কেন ওয়াইফাই যেন সব সময় সাথে থাকছে। তবে আমরা যারা ফাইবারের অ্যাপ ইউজ করি, তারা একমাত্র নিজের ওয়াইফাই ছাড়া বাইরের কোন রকম কোনো ওয়াইফাই এর সাথে কানেক্ট না হওয়াই ভাল। সব সময় মোবাইলের ডাটা রাখবেন। অফিস, ইউনিভার্সিটি, রেস্টুরেন্ট, কিংবা আপনার কোন ফ্রেন্ডের বাসায় গিয়েই ওয়াইফাই চালু রাখবেন না। কারণ হচ্ছে হয়তোবা আপনারই অজান্তে আপনার ক্যাটাগরিতে অন্য কেউ এই ওয়াইফাই এর কানেক্ট আছে। সচরাচর এই ব্যাপারটি নিয়ে খুব বেশি সমস্যা হয় না কিন্তু তারপরও ফাইবার যে হারে কঠিন হচ্ছে যে কোন সময় যে কোনো ইস্যু দেখিয়ে দিতে পারে। তাই সাবধান থাকা তাই ভালো।

৩। যারা একদমই নতুন তারা গিগ শেয়ারিং করতে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে এক প্রকার স্ক্যামিং ই করা শুরু করে দেয়। গিগ শেয়ার করা ভালো, তবে তা যথাযথ জায়গায় সঠিকভাবে শেয়ার করবেন। কোথাও পোস্ট করার আগে শুধুমাত্র লিংক পোস্ট না করে আপনার সার্ভিসটি সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলবেন এবং আপনার থেকে কি কি সুবিধা পাবে তার কিছু নমুনা দেখিয়ে তারপর লিংক শেয়ার করবেন।

৪। বায়ার কে কখনো সরাসরি রিভিউ দেয়ার কথা বলবেন না, এটা সবাই জানে। তবে ইনডাইরেক্টলি বলতে তো সমস্যা নেই তাইনা। আর বলাটাও গুরুত্বপূর্ণ কারণ রিভিউ পরিবর্তন করার সুযোগ পূর্বে থাকলেও এখন আর নেই। ইনডাইরেক্টলি বলতে এরকম ভাবে বলতে পারেন যে, dear client, here is your final delivery inclosed. I hope you will love it but if by-chance is there any problem please don’t hesitate to ask me for another correction. I will try to solve it asap. But if you think my service is perfect for this job obviously I deserve your appreciation and please don’t forget to share this experience with your friends. তারপর আপনার আর যা যা বলা লাগে বলবেন, আমি শিউর এই ক্ষেত্রে খুব বিশেষ কোন ঝামেলা না হলে আপনি একটি ভাল ফিডব্যাক নিয়ে আসতে পারবেন।

৫। সব সময় মনে রাখবেন সবার উপরে আপনার অ্যাকাউন্ট। তাই একাউন্ট রক্ষা করার জন্য যদি বড় কোনো এমাউন্টের অর্ডার ক্যানসেল করে দিতে হয় মন খারাপ করবেন না। একাউন্ট টিকে থাকলে এরকম অনেক অর্ডার পাবেন কিন্তু সামান্য কিছু ডলারের জন্য আপনার মূল্যবান একাউন্টে হারাবেন না। তাই যদি কখনো কোনো ক্লায়েন্ট প্রথমেই ক্যান্সলেশন এর কথা বলে আপনি আর কোন রকমের বার্গেনিং না করে ফর্মালি তাকে ধন্যবাদ দিয়ে রাজি হয়ে যাবেন। বাড়াবাড়ি করলে পরবর্তীতে একাউন্টে সমস্যা হতে পারে। যদিও বা এই মুহূর্তটি অনেক কষ্টের, কিন্তু কিছুই করার থাকেনা তখন শুধুমাত্র অ্যাকাউন্ট এর কথা ভেবে।

৬। ভুলেও কখনো আপনার সিক্যুরিটি কোয়েশ্চন এবং ভেরিফাই ফোন নাম্বার ভুলবেন না। প্রয়োজন হলে কোথাও লিখে রাখুন। যদি কোন মতে ভুলেও জান এ ব্যাপারে কাস্টমার সাপোর্ট এ যোগাযোগ করেও কোন লাভ হবে না।

৭। খুব বেশি বিশেষ দরকার না হলে কাস্টমার সাপোর্ট এ যোগাযোগ করবেন না। কারণ ফাইবারের কাস্টমার সাপোর্ট আমাদের থেকেও বায়ার দের বেশি প্রাধান্য দেয়। হয়তোবা আপনি আপনার ভালোর জন্য যোগাযোগ করতে গিয়ে উল্টা ফেঁসে যেতে পারেন। কিছু কিছু ব্যাপার সেক্রিফাইস করে দিতে হবে।

৮। ফাইবারের সার্চ অপশনে এখন আগে শুধু বেস্ট সেলিং গুলোই দেখায়। যেখানে আপনার নতুন গিগ খুঁজেও পাওয়া যাবে না। আর কমন কোন সার্ভিসের জন্য বায়ার ওইগুলো থেকেই খুঁজে নেবে। তাই আপনার সেল গিগ রেংকিং এর উপর নির্ভর না করে কী ওয়ার্ড এর উপর বেশি মনোযোগ দিন। একদম সম্পূর্ণ ইউনিক কিছু কিওয়ার্ড বের করুন যে গুলোর উপর গিগ এর পরিমান খুবই কম। নতুনরা একমাত্র এই উপায় অবলম্বন করেই কাজ পাবার সম্ভাবনা বেশি পাবে।

৯। আপনার গিগ এর প্রথম ইমেজটি কালারফুল রাখার চেষ্টা করুন যেটা অনেক গুলোর মধ্যে খুব সহজে চোখে পড়ে। যেমন লাইট ইয়েলো। এতে দেখা যাবে আপনার ক্লিক এর পরিমান বেড়ে গেছে।

১০। সর্বশেষ টিপস হচ্ছে ভালো একটি পোর্টফোলিও অবশ্যই থাকা লাগবে। ভালো কাজের কোন বিকল্প নেই। কাজ পারেন না, অর্ডার পেয়েও কোনো লাভ হবে না। তাই বরাবরের মতই বলি আগে ভালো কাজ শিখুন তারপর মার্কেটপ্লেসে আসুন। মার্কেটপ্লেস দূরে কোথাও চলে যাচ্ছে না, বরং দিন দিন এই রকমের মার্কেটপ্লেস আরো বাড়বে। তাই তাড়াহুড়োর কিছু নেই, স্কিলের প্রতি মনোযোগ দেই যেন বেশি দেই।

এই ছিল আজকের 10 টি অতি সামান্য টিপস। ইনশাআল্লাহ আগামী পর্বে চেষ্টা করব নতুন কিছু নিয়ে বলার। আপনাদের কারো কোন প্রশ্ন থাকলে কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। আমি চেষ্টা করব যথাযথ উত্তর দেয়ার আর আমি না জানলেও বড় ভাইরা তো আছেই। হ্যাপি ফ্রিল্যান্সিং।

লেখকঃ Mohammad Asadujjaman Sujan

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *