ফাইভার সতর্কতা ও নাইজেরিয়ান লেটার

ফাইভার সতর্কতা ও নাইজেরিয়ান লেটার

আপনি যদি একজন ফাইভার সেলার হন, আপনার কাছে বায়ার রা কাজের জন্য নক দিবে। এটাই তো সাভাবিক। তাই না!! তারপর তার সাথে গিগ নিয়ে দেন-দরবার হবে এটাও সাভাবিক। আপনি যদি মোটামুটি লেভেলের সেলার হোন, আর কাজের পারশ্রমিক যদি একটু বেশি হয় আপনি সাভাবিক ভাবেই চাইবেন না ফাইভার কে সার্ভিস কস্ট দিতে! মানে ধরেন আপনার যদি ১০০ ডলারের অর্ডার থাকে, ফাইভার কে দিতে হয়…২০ ডলার।
ও ক্ষেত্রে আমরা অনেকেই ফাইভারের বাহিরে পেমেন্ট নিয়ে থাকি। (প্রসেস টা খুব রিস্কি।আইডি ব্যান হয়ে যাবে একটু ভুল করলেই।সো কখনোই এমন করবেন না)

তো এবার আসি, মুল কথায়! সতর্কটা আবার কি? বেশ কিছুদিন আগে আমাকে এক মেয়ে ক্লায়েন্ট নক দেয়।
কাজের কথা ছারাই সে আমার ইমেইল এড্ড্রেস টা চায়। খুব ই ব্যাস্ত ছিলো। বারবার ইমেইল চায়। এবং আমি দিতে রাজি না থাকার কারনে সে নিজেই তার ইমেইল টা আমাকে দেয়, যোগাযোগ করার জন্য। যার ফলে তার আইডি ব্যান হয়ে যায়৷
তার আইডি ব্যান হবার পর, তার ইমেইল এড্ড্রেসে আমি যোগাযোগ করি।
অনেক বায়ার ই ফাইভারের বাহিরে কাজ করিয়ে নিতে চায়। এতে করে তাদের সার্ভিস চার্জ টা সেভ হয়।
তো এ ভেবে আমি তার সাথে ইমেইলে যোগাযোগ করি!!

এরপর ই আসে আসল খেলা!😂
সে আমাকে এমন ভাবে বুঝায় যে, সে ক্যামেরুনের বাসিন্দা। সেখানে গৃহযুদ্ধ হবার ফলে তাদের পরিবার শেষ হয়ে গেছে। বিপরীত পক্ষ তার বাবাকে, হত্যা করেছে। তার বাবা ছিলো ক্যামেরুনের একজন অয়েল টাইকুন। মানে তেল ব্যাবসায়ী। সরকার পক্ষ থাকাতে তার বাবাকে তার পুরো পরিবার কে হত্যা করা হয়েছে।
শুধু একমাত্র সেই বেচে আছে। আর বর্তমানে সে জাতিসংঘের রিফিউজি ক্যাম্পে আছে। তার হেল্প দরকার!

আসলেই বর্তমানে ক্যামেরুনে যুদ্ধ চলছে। সেদেশের অবস্থা খুব খারাপ।
তো আমার বাঙালি নরম মন😁😁 কিছুটা মানবিক হয়ে উঠে।
তো তাকে জিজ্ঞাস করি- এখন আমি আপনার জন্য কি হেল্প করতে পারি?
আমি আপনার গ্রাফিক্সের কাজ ফ্রি করে দিবো। চিন্তা নিয়েন না৷

পরে সে জানায় না তার কোন কাজ লাগবেনা। তার অন্য রকম হেল্প লাগবে! আরেএএ বাবা আমি আবার কি হেল্প করবো! ভাবছিলাম ৫/১০ ডলার চেয়ে বসবে। তারপর মানবতার খাতিরে না দিয়ে পারবোনা।
বাট সেটাও না!! তাহলে??

তার বাবা তার জন্য ব্যাংকে কিছু ফিক্সড ডিপোজিট করে রেখেছিলো। কিন্তু সে রিফিউজি ক্যাম্পে থাকার কারনে সেই টাকা কোথায় রাখবে সে নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলো। এবং সে তার দেশের কাউকে বিলিভ করেনা। সেখানে সবাই সবার শত্রু!

তারপর বললাম এখন আমি কি হেল্প করতে পারি.??

সে বললো… সে চায় তার একাউন্টে যত টাকা আছে সব অন্য কারো একাউন্টে ট্রান্সফার করবে।

তো আমি করবো?
সে চাচ্ছে তার টাকা-পয়সা সব আমার একাউন্টে পাঠাবে। তারপর বাংলাদেশে এসে আমার সাথে মিট করে এইখানে একটা ব্যাবসা করে তার খারাপ সময় দূর করবে! আর ব্যাবসার কিছু লভ্যাংশ আমাকে দিবে। ১০% লভ্যাংশ আমাকে দিবে কারন আমি যে তাকে এত হেল্প করবো!

এমন প্রস্তাব শুনলে অনেস্টলি বলতেছি- ভালোই লাগবে😂😂 আপনারো জোস লাগবে। মেয়েটাও আবার সুন্দরী। সব দিক দিয়েই বাম্পার। কি বলেন?

পরে তাকে জিজ্ঞাস করলাম, আপনার ডিপোজিট কত আছে?
সে যা শুনালো তা শুনে আকাশ থেকে পড়ে মাটি ভেঙে ঢুকে গেছিলাম! 🙈🙈
৫ মিলিয়ন ডলার! একটু ক্যালকুলেটর নিয়ে বসে পড়েন। ১ মিলিয়ন= ১০ লক্ষ।
৫ মিলিয়ন ডলার!! 😱😱😱

সে তার ৫ মিলিয়ন ডলার আমার একাউন্টে ট্রান্সফার করবে। তখন ভাবছিলাম আমার একাউন্ট যে ব্যাংকের, সেই ব্যাংকে আছে কিনা ৫ মিলিয়ন ডলার!! 😂😂😂😂😂
নিজেই তো একটা ব্যাংক দিয়া বসতে পারবো! 😁😁😁

ব্যাপার টা একটু খটকা লাগলো!
একটা অচেনা মানুষ, তার এত টাকা আমার কাছে পাঠাবে কেন?
আর যে মানুষের ৫ মিলিয়ন ডলার আছে, সে কেন রিফিউজি ক্যাম্পে থাকবে! সে তো চাইলে আমেরিকা গিয়ে একটা বাড়ি কিনতে পারে! বাংলাদেশেই বা কেন আসবো? 🙈🙈

তারপর গুগলে সার্চ দিলাম। বেশ কিছু আর্টিকেল পড়লাম। এরপর যা জানতে পারলাম—

পুরো ব্যাপার টা হলো একটা ফ্রড।
এটা একটা ইন্টারন্যাশনাল সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেটের প্রধান টার্গেট হলো ফ্রি-ল্যান্সার রা।
ফ্রি ল্যান্সারদের সাথে এমন রিয়েল ইমোশনাল কথা বলে, তাদের ব্যাংক একাউন্ট গুলো কালেক্ট করা। কারন আপনি আমি সবাই জানি একজন ফ্রি-ল্যান্সারের একাউন্টে মাস্ট টাকা থাকবেই। আর এই চক্রে রয়েছে একটি হ্যাকার-টিম। আর এই হ্যাকার টিম কে সাহায্য করে UMB Bank Financial নামের একটা আর্থিক প্রতিষ্ঠান৷ আর্থিক প্রতিষ্ঠান হবার ফলে তারা ইন্টারনেট ব্যাংকিং এর ফাক-ফোকোড় জনে। আর এই তথ্য গুলো হ্যাকার-টিম কে প্রদান করে।
আর আপনি যখন আপনার ব্যাংক একাউন্ট টি এমন কাউকে দিবেন, তারপর তারা আপনার ব্যাংক একাউন্ট হ্যাক করার চেষ্টা করবে৷ আর যদি সফল হয়, ৫ মিলিয়ন বাশ আপনাকে ভরে দিবে😂😂😂

এই সিন্ডিকেট টি নাইজেরিয়া ও দক্ষিন আফ্রিকার উগ্র রাষ্ট্র গুলো থেকে পরিচালিত হয়। আর UMB Financial কোম্পানীর সাথে যুক্ত ভারতের কিছু বদমাশ ইন্টেলিজেন্ট হ্যাকার।
এক কথায় পুরো ইন্টারন্যাশনাল সিন্ডিকেট!

তো নেক্সট টাইম, ফাইভারের বাহিরে কোন ক্লায়েন্ট এর সাথে লেনদেন করার আগে ভেবে চিনতে করবেন। এমন কোন লোভাতুর অফারে পা দিবেন না। বিলিভ না হলে গুগলে Nigerian Letter লিখে সার্চ দেন৷ এই ব্যাপার টি নিয়ে আমেরিকার FBI ও খুব ততপর। তাদের নথি গুলো পড়ে দেইখেন।

যাইহোক, আশা করি কিছুটা সচেতন হবেন আমার পোষ্টের মাধ্যমে। যে কিনা রিয়েল বায়ার সে প্রথমেই আপনার সাথে কাজ নিয়ে আলোচনা করবে৷ তারপর পেমেন্ট।। হুট করে কেউ ইমেইল চাইলে সাবধান।।
আপনি ফাইভারে ইমেইল দিতে যাবেন না৷ দিলে আপনার আইডি কোমায় চলে যাবে।।

লেখকঃ Siam Hasan

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *