“ফ্রীল্যান্সিং- এ প্রাতিষ্ঠানিক কতটুক গুরুত্বপূর্ণ

ফ্রীল্যান্সিং- এ প্রাতিষ্ঠানিক কতটুক গুরুত্বপূর্ণ
কম্পিউটার রিলেটেড প্রফেশন গুলো (বিশেষ করে ফ্রীল্যানসিং, প্রোগ্রামিং, গ্রাফিক্স ) দুনিয়াকে নতুন একটা দিক “দুনিয়াতে প্রকৃত ট্যালেন্টেড কিভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে” তা দেখিয়ে দিয়েছে। প্রাতিষ্টানিক শিক্ষা যে কত দুর্বল হতে পারে তা দেখিয়ে দিচ্ছে। আস্তে আস্তে প্রাতিষ্টানিক শিক্ষার দুর্বলতা সবাই বুজতে পারছে। তাইতো গুগল, ফেইসবুক সহ দুনিয়ার বড়ো বড়ো কোম্পানিগুলো প্রাতিষ্টানিক এডুকেশন কে গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এখানে পিএইচডি করে কাজ করার সুজুগ পায় না, আবার সিম্পল এডুকেশন নিয়ে অনেক ভালো অবস্থানে আছে।
কয়েকজন আমেরিকান ওয়েবসাইট প্রোগ্রামার দের প্রোফাইল দেখলাম। সবার ১০০০ ঘন্টার উপর কাজের অভিজ্ঞতা । একজন শুধু হাই স্কুল ডিগ্রী নিয়ে ১৮২ ডলার ঘন্টায় কাজ করছেন। আবার একজন ফিজিক্স পিএইচডি ও MBA (Portland State University)কাজ করছেন ৪৫ ডলার ঘন্টায়। অনেক পিএইচডি কাজ পাচ্ছেন না।
প্রাতিষ্টানিক এডুকেটেড মানেই ট্যালেন্টেড না । সর্বোচ্চ প্রাতিষ্টানিক ডিগ্ৰী একজন মানুষকে তার টোটাল প্রয়োজনীয় জ্ঞানের বড়োজোর ৫-১০% দিতে পারে। বাকি সব জ্ঞান আসে পরিবার, সমাজ, আত্মজিজ্ঞাসা, জানার প্রতি আগ্রহ ইত্যাদি থেকে। আর আমাদের বাংলাদেশের প্রাতিষ্টানিক এডুকেশন তো আরো খারাপ। উন্নত বিশ্ব যেখানে আস্তে আস্তে প্রাতিষ্টানিক এডুকেশনের দুর্বলতা দেখে চেষ্টা করছে বার হবার সেখানে বাংলাদেশের এডুকেশন সিস্টেম দুর্বলতা কে আরো শক্তভাবে আকড়িয়ে ধরার চেষ্টা করছে। যদিও প্রাতিষ্টানিক শিক্ষার দুর্বলতা থেকে বার হয়া হয়তো সম্ভব না।
একটা ছাত্র একটা ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হয় কত স্বপ্ন নিয়ে। কিন্তু বার হয় হতাশ হয়ে। একটা ইউনিভার্সিটি থেকে তো এমনভাবে বার হবার কথা ছিল না?
একটা ইউনিভার্সিটি তে না আছে টিচার না আছে ভালো কাররিকুলাম। তাহলে একটা স্টুডেন্ট কিভাবে শিখবে?
ওয়েব টেকনোলজি বর্তমানে কম্পিউটার এর সবচাইতে আকর্ষণীয় কাজের কেত্র । ওয়েব টেকনোলজি তে দক্ষ হলে একজন সহজে কাজ পেয়ে যায়। কিন্তু দুর্ভাগ্য বাংলাদেশের অনেক ইউনিভার্সিটি আছে যেখানে ওয়েব টেকনোলজি পড়ানো হয়না। আবার যে কয়টা ইউনিভার্সিটি তে পোড়ানো হয় সেগুলোতে নামকওয়াস্তে পোড়ানো হয় । তারা মনে করে যে স্টুডেন্ট রা জানলেই তারা পারবে। কিন্তু তারা বুজতে চায় না যে যেকোনো কিছু জানা সহজ কিন্তু দক্ষ হয় কঠিন।
আবার বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটি তে ওয়েব টেকনোলজি ভালভাবে বুজে এমন টিচার আছে কিনা আমার জানা নাই। যদি একজন টিচার ওয়েব টেকনোলজি ভালোভাবে না বুজতে পারেন তিনি কিভাবে পড়াবেন? বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটি গুলোতে শিক্ষক নিয়োগ এমনভাবে দেয়া হয় যার কারণে একজন দক্ষ প্রফেশনাল একজন শিক্ষক হতে পারে না।আবার একজন দক্ষ প্রফেশনাল শিক্ষক হতেও উৎসাহিত হবে না । কারণ একজন দক্ষ প্রফেশনাল এর অনেক পথ আছে যা দিয়ে সে অনেক ভালো কিছু করতে পারে। যদিও কিছু ইউনিভার্সিটি দক্ষ প্রফেশনাল দের পার্ট টাইম টিচিং এর সুজুগ দিবার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখানেও সমস্যা। একজন দক্ষ প্রফেশনাল কে বোজার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কেহ ইউনিভার্সিটি গুলোতে নেই।
আর তার ফলাফল? ৪/৫ টা বছর একটা ইউনিভার্সিটি তে কম্পিউটার পড়ে কম্পিউটার এর কীবোর্ড এ কিভাবে আঙ্গুল রাখতে হয় এইটুকুও জানতে পারে না এমন কম্পিউটার গ্রাজুয়েট আছে।

লেখক: Subir Chowdhury
Spread the love

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *