বাংলাদেশের ফ্রীল্যান্সিং/রিমোট জব বিষয়ে ব্যক্তিগত ভাবনা

বাংলাদেশের ফ্রীল্যান্সিং/রিমোট জব বিষয়ে ব্যক্তিগত ভাবনা

১। ফ্রীল্যান্সিং বলতে যদি আপনি শুধু বুঝে থাকেন আইটি এর কাজ – কম্পিউটার/প্রোগ্রামিংয়ের কাজ তাহলে সম্পূর্ণ ভূল। কোন কোম্পানী বা ব্যক্তি মালিকানাধীন এর অধীনে কাজ না করে স্বাধীনভাবে নিজের মতো করে যে কোন কাজ করাই ফ্রীল্যান্সিং ।
২। বাংলাদেশের আইটি খাতে রিমোট জব (যাহাকে অনেকেই ফ্রীল্যান্সিং বলে) অনেক অনেক এগিয়ে গিয়েছে। এর মাধ্যমে অনেক তরুন উদ্দ্যোতা হয়েছে এবং প্রচুর কর্ম-সংস্থান হয়েছে।
৩। ভূলে গেলে হবে না একদা একদিন বাংলাদেশে ডু-ল্যান্সার/ক্লিক-ল্যান্সার নামে অনেক ল্যান্সারই ছিলো যারা মানুষের সাথে প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই করে নি। এখন তাদের অনেকেই আবার “ফ্রীল্যান্সিং” শব্দটার মানে না বুঝেই মার্কেট নষ্ট করছে। এদেরকে যেখানেই পাবেন সেখানেই ভন্ডামীর মুখোশ খুলে দিবেন। এদের কারনে একটিও যেনো সম্ভাবণার অকাল মত্যু না হয় ।
৪। পত্র-পত্রিকার খবর দেখে ভূল বুঝবেন না। “ফ্রীল্যান্সিং” মানেই টাকাই টাকা না । এটা যেমন আপনাকে স্বাধীনতা দেয় নিজের কাজ করার ক্ষেত্র/ প্রজেক্ট নিজেকেই পছন্দ করে নেয়ার তেমনি এটাও মাথায় রাখতে হবে আপনি যে প্রযেক্টেই কাজ করেন না কেনো সেটা সময় মত শেষ করতে হবে ক্লাইন্টের পছন্দ মাফিক। তাহলে ব্যাপারটা কি দাড়ালো?? একটা প্রজেক্টে কাজ করার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আপনি ঠিকই ওই লোক/কোম্পানীর বেতনভুক্ত কর্মচারী। আবার, সঠিক সময়ে সঠিকভাবে কাজ জমা না দিতে পারলে মাঝে মাঝে ভোগান্তিরও শেষ নাই । অনেকের হেয়ালীপানার জন্য অংকুরেই মার্কেট-প্লেসে নিজের প্রোফাইল/ক্যারিয়ার শুরুর আগেই শেষ !
৫। মার্কেট-প্লেস গুলোতে কিন্তু রিমোট জব করা এতো সহজ নয়। বিশেষ করে আপনি যদি প্রজেক্টের ডিটেইল্স না জেনেই কাজ নিয়ে বসে থাকেন। নিজেকে আগে ১০০% প্রস্তুত করে নিতে হবে কাজ করার জন্য।
৬। অল-রাউন্ডার হতে চান? দরকার নাই ভাই। যে কোন একটা বিষয়ে পারফেক্ট হন। একটু ধৌর্য ধরুন। আপনি যে বিষয়ে এক্সপার্ট সেটারই কাজ করে কুল পাবেন না।
৭। নিজেকে আন-সোসাল বানাবেন না। ভূলে যাবেন না আপনার নিজের জীবন বলেও কিছু আছে। সপ্তাহে অন্তত একদিন সম্পূর্ণ নিজের মতো করে থাকুন। ভার্চুয়াল জগৎ ছেড়ে বাস্তব জীবনের বন্ধুদের সাথে সময় কাটান। পরিবারকে সময় দিন। আপনি জানেন না আগামীকাল কি হতে যাচ্ছে!
৮। আজকাল অনেককেই দেখি ডিপ্রেশনে ভূগছে। সারারাত জেগে কাজ করে, ঘুম হয় না ঠিক মতো, খাওয়া-দাওয়া নাই ঠিক মতো। আপনার দৌড় সর্বোচ্চ ৬-৮ বছর । জীবনের লং রেসে আপনি শর্ট টাইমেই দম হারিয়ে ফেলবেন।
৯। অল্প বয়সেই টাকার পিছনে না দৌড়াই ! আগে নিজের পড়াশুনা শেষ করুন। রিমোট জব/ফ্রীল্যান্সিং এর জন্য নিজের পুরো ক্যারিয়ারটাই ধ্বংসের দিকে ফেলে দিবেন না। অমুকভাই এই – তমুক ভাই এই এই সব দেখতে যাবেন না। সবাই অমুক-তমুক ভাই না । সবাই অমুক-তমুক ভাই হতে পারে না। পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট টাইম কাজ করা যায় তবে অবশ্যই নিজের পড়াশুনা নষ্ট করে নয়।
১০। রিমোট জব / ফ্রীল্যান্সিং মার্কেট দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে। যেটার বড় সুবিধা পাবো আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোই। কাজেই নিজেদেরকেই এটাকে সচেতনভাবে পরিষ্কার রাখতে হবে। মনে রাখবেন আপনি যখন বাইরের কোন বায়ার/কোম্পানীর কাজ করছেন আপনি শুধু নিজেকে না পুরো দেশটাকে রি-প্রেজেন্ট করছেন। কাজেই অযথা কাজ না জেনে মার্কেটে দেশের বদনাম করবেন না।

 

লেখকঃ Mijanur Rahman Milon 

Author: admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *